কাজী জহির আহমেদের ৫টি অস্বাধারণ কবিতা

কাজী জহির আহমেদের ৫টি অস্বাধারণ কবিতা

অনলাইন খবর ডটকমঃ


 

কাজী জহির আহমেদ। পিতা-মরহুম কাজী হোসেন আহমেদ ও মাতা-সামছুন্নাহার বেগম। তাদের চার সন্তানের তিনি বড় সন্তান। চিরসবুজ আন্দিউড়া গ্রামের মাধবপুর থানার হবিগণ্জ জেলায় সম্ভ্রান্ত মুসলীম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। জীবনের বেশিরভাগ সময়ই ব্রাম্মণবাড়িয়ার তিতাসের নির্মল পরিবেশে কাটান আর লিখে যাচ্ছেন গল্প কবিতা আর প্রবন্ধ। আর তাই ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করতে চলেছি ওনার সাহিত্য কর্ম। আজ পাঠকমহলের জন্য পাচটি কবিতা প্রকাশ করলাম। তিনি এখন চট্রগ্রাম স্টিল সাইলো (খাদ্য ভবনে) চাকুরীতে নিযুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি অনুশীলন সাহিত্য পরিষদ এর পরিকল্পনা সম্পাদক, কবি ও কবিতা অনলাইন ভিত্তিক সংঘটের প্রতিষ্ঠাতা ও সাংঘটনিক সম্পাদক, তরফ সাহিত্য পরিষদ, হবিগঞ্জ এর সাংস্কেতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও কাজ করছেন গুনী কবি কাজী জহির আহমেদ । আমরা তার সর্বাঙ্গীণ শুভ কামনা আশা করছি।


এসব কেবল মধ্য রাতেই হয়
… কাজী জহির আহমেদ



এসব কেবল মধ্য রাতেই হয়
নিষিদ্ধ পল্লী জেঁগে ওঠে
চারদিক হয় আলোকময়
মধ্যরাতে ঝড়াপাতা রুপে
ওরা উড়ে,
ওরা ঘুরে
নিজেকে বিলিয়ে দেয়
নিজেকে চিনিয়ে নেয়।
সোডিয়ামের নিভু নিভু আলোতে
নিজেকে সপে দেয় আগুন জ্বালাতে
লিপস্টিকে মোড়ানো ঠোঁট যেন গোলাপের পাপড়ি নয়
আবার তাই মনে হয়।
তোমার কামনা থামাতে প্রতিঞ্জাবদ্ধ
খ্রিস্টপূর্ব থেকে খ্রিস্টাব্দ
এমনি করে করেছে কামনাকে জব্দ
ওরা কামরুপী, ওরা নিষিদ্ধ ।
ওরা নয় দেবী
কেবল নিষিদ্ধ কামরুপী সেবী
ওরা চিরকাল এভাবেই বেঁচেরয়
এসব কেবল গভীর রাতেই হয় ।
. . . . . . . . . . .
পতেঙ্গা, চট্রগ্রাম
১৬-১১-২০১৫


ভালবাসার মৃত্যু আর মাল্যদান
-কাজী জহির আহমেদ



এ কেমন অশ্রুমালায়
মাল্যদান করলে আমায়
বিষাদময় বিরহের যন্ত্রনায়
পুরাতন ক্ষত সুরেলা নব ধারায়
পুড়াচ্ছে নব মঙ্গল কামনায় ।
হায়রে আমার জিবন-যাপন
সদা খুজে বেড়াই,
সুখী হতে নিরন্তন ।
বিধ্বস্ত রোদের ঢেউ
কামনাকে থামায়,
স্বপ্নে দেখা রাঙ্গা বউ।
করুণার বিষমাখা সুর
ঠেলে দেয়—
আসতে দেয়’না স্নিগ্ধ ভোর,
হায়রে সখি আমার-
হায় ভালবাসা !
মৃত্যু হলো তোর স্বপ্ন-আশা ।


৩০-১০-২০১৫
চট্রগ্রাম, পতেঙ্গা ।


ঘোর
-কাজী জহির আহমেদ



সুকেশী তুমি অপ্সরা রুপী
বিছায়ে দাও ভালবাসার চাদর,
অন্ধ মায়ায় ওগো সোদামিনী
সাজাও এবার বাসর।
পূর্ণ রুপে খোলস ছাড়িয়ে
ছুঁয়ে দাও অধর ।
অর্ধাঙ্গ রুপী দূর কর ব্যাধি
ওষ্ঠ চুমে কর আদর,
অগ্নুত্‍পাত হোক ধ্বংস হোক
ভালবাসার আসর ।


অপেক্ষা
-কাজী জহির আহমেদ



এমনি এক নিস্তব্দ শহরে
আমাবশ্যার রাতে আমিও দাড়িয়ে ছিলাম,
এখনো দাড়িয়ে আছি
নির্জন স্টেশন
নিস্তব্দ হয়ে আছে সকল আয়োজন
কেবল তোমারই অপেক্ষা ।
হাজার মাইল পেরিয়ে,
বন বন্দর পেরিয়ে
তুমি আসবে বলে
সেই অপেক্ষা ।
রাতের নক্ষত্ররা ক্লান্ত আজ
মুছে গেল সকল সাঁজ
তবু,
অপেক্ষার ক্ষণ শেষ নেই
কেবল তোমারই অপেক্ষা ।
নগরের সোডিয়ামের লেমপোষ্টের আলো
এক বিচিত্র ঠাট্টায় মেতে আছে
ওরা বলে,
তুমি নাকি আসবেনা
তবে!
একাই যাব ?
আমি খুব ক্লান্ত,
অনিয়ম আর অবহেলায়
আমার বেঁচে থাকার সব স্বাদ, আহ্লাদ
মৃত প্রায়
আমিও তাই…
কেবল তোমারই অপেক্ষা ।
হাজার বছরের অক্লান্ত অপেক্ষা,
ভরা আকাশের নক্ষত্ররা
পৃথিবীর জল ধুলিকণাদের
আমৃত্যু অপেক্ষা
তুমি আসবে…
সেই অপেক্ষা ।


সমাপ্তি
-কাজী জহির আহমেদ



তোমার অস্তিত্ব যখন
আমার অস্তিত্বের ভেতর
আমি তখন এক ঘোরে আচ্ছন্ন ছিলাম,
আমি টের পাইনি
যা চাইনি
তার আগেই ছুঁয়ে দিলে
সপে দিলে মন
পূজরানী তুমি, হয়ে গেলে অন্যজন ।
হাজার মানুষের ভিড় ঠেলে
রাত্রি আর দিন
তোমায় খুঁজেছি প্রতিদিন,
নক্ষত্রেব তলে
গহিন সমুদ্রের জলে।
মাঝরাতে পিপাসা মিটাতে
তোমার রক্তের ভালবাসা যখন
তুলে দাও তার হাতে
আমিও তখন
ঐ দূর নক্ষত্রের কাছে
যেখানে বিশালতা আছে
সেখানে উন্মাদ যৌবনকে পান করাই জল,
দেহ ঝরে
ঝরে যায় শরীরের বল !
অবাক ভালবাসা কাঁদে
মিশে যেতে চায় গভীরতার ফাঁদে
তারপর মানুষের ভিড় ঠেলে
সমুদ্রের জলে
নক্ষত্রের তলে
রাতে গভীর অন্ধকারে
ডুবে যেতে চায় বারেবারে ।


কাজী জহির আহমেদ


kazizahir89@gmail.com

Comments

comments