বাংলাদেশ ব্যাংক কেনো লুকোচুরি করেছিলো !

বাংলাদেশ ব্যাংক কেনো লুকোচুরি করেছিলো !

অনলাইন খবর ডটকমঃ


 

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ৮০০ কোটি টাকা লোপাট হয়ে গেলেও গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের আগে বিষয়টি সরকারকে জানায়নি বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থমন্ত্রীকে যেমন জানানো হয়নি তেমনি সংশ্লিষ্ট সচিব ঘটনার একমাস পর যখন ভিন্ন বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বৈঠক করেন তখনো তাকে এ বিষয়ে কেউই কিছু জানাননি।

এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরদের কেউ কেউ-ও কিছুই জানতেন না।এমন লুকোচুরি কেনো সেই প্রশ্নের উত্তর দেয়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অর্থমন্ত্রী তাই ক্ষুব্ধ হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব এম আসলাম আলম বলেছেন, বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সরকারকে না জানানো ঠিক হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী গত ৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের বাংলাদেশ ব্যাংকের একাউন্ট থেকে ১০১ মিলিয়ন ডলারের সমপরিমান অর্থ হ্যাকাররা চুরি করে। এই ঘটনার প্রায় দুই মাস পর চুরির বিষয়টি পত্রিকা পড়ে খবরটি জানতে পারেন অর্থমন্ত্রী। সেদিন ছিলো ছুটির দিন, তাই অফিস খোলার পরই আসলে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তাকে বিষয়টি জানানো হয়। এতে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ অর্থমন্ত্রী।

রোবার দুপুরে অর্থমন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে সেই ক্ষোভই প্রকাশ করলেন অর্থমন্ত্রী। আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন,’ঘটনাটা ঘটেছে ৪ ফেব্রুয়ারি। ৬ মার্চ পর্যন্ত আমরা কিছু না জানতে পারি। কারণ ৪, ৫ ও ৬ তারিখ ছুটির দিন ছিলো। কিন্তু প্রায় এক মাস পর আমরা জানলাম। বাংলাদেশের সেই অডাসিটি রয়েছে যে তারা এইসব কথা আমাদের কাছে গোপন রেখেছে। এই ব্যাপারে আমি অবশ্যই পদক্ষেপ নিবো’।

সচিবও জানতেন না: ১ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকে অডিট কমিটির বৈঠকে ছিলেন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব এম আসলাম আলম। সেদিনও রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির বিষয়টি জানানো হয়নি তাকে। রিজার্ভ থেকে চুরির বিষয়টি জানতে গভর্নরের অনুপস্থিতিতে রোববার ডেপুটি গভর্নরদের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ডক্টর এম আসলাম আলম।

তিনি বলেছেন,‘ফিলিপাইনের যে মানি লন্ডারিং কর্তৃপক্ষ আছে তারা সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজ করেছে। সেখান থেকে ৬৮ হাজার ডলার ফেরত পাওয়া গেছে। বাকি টাকা ফেরত পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এটা আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের জানানো হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকে ২৩ ফেব্রুয়ারি আমরা বোর্ড মিটিংও করেছি, সেখানেও এই বিষয়টি উঠেনি। অডিট কমিটির দুটি মিটিংয়েও আসেনি। কেন, সেই প্রশ্ন করলে তারা বলেছে, তারা তদন্ত করে পুরো চিত্র নেওয়ার চেষ্টা করেছে বলেই অভিহিত করেনি। আমি মনে করি আমাদের সাথে সাথেই জানানো প্রয়োজন ছিলো। এটা দীর্ঘ সময় লাগবে, কারণ টাকাটা এর মধ্যেই ব্যাংকিং সিস্টেমে নেই। সেটা বের হয়ে গেছে।’

ডেপুটি গভর্নররাও অন্ধকারে: অর্থমন্ত্রী কিংবা ব্যাংকিং বিভাগের সচিব দূরে থাকুক, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরদের কেউ কেউ রিজার্ভ থেকে চুরির বিষয়টি জানতেন না। এ নিয়ে কোনো লুকোচুরি সদুত্তর মিলছে না কারো কাছ থেকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা রাজী হাসান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে হয়েছে নাকি বাইরে থেকে হয়েছে সেটা তদন্ত শেষেই জানা যাবে। সেটা হতেই আরো অন্তত দুই সপ্তাহ সময় লাগবে।

‘অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা’ অর্থমন্ত্রী এতোটাই ক্ষুব্ধ যে তিনি এইজন্য প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চেয়েছি। এরপরই হয়তো আগামীকাল আমি কোনো স্টেটমেন্টে দিবো। কিছু করতে চাই তাহলে তার অনুমতি নিয়েই করবো’।

অর্থমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে তাদের ভুলের কারণে অর্থপাচারের এই ঘটনা ঘটেনি। অর্থপাচারের ঘটনা উদঘাটনে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের সহায়তা চাওয়া হবে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নিবে সরকার।

সোমবার কমিটি গঠন: বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনা তদন্তে আগামীকাল (সোমবার) ৪ সদস্যের কমিটি গঠন করছে সরকার। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের জরুরি বোর্ড সভাও ডাকা হয়েছে। খোয়া যাওয়া ১০ কোটি ডলারের মধ্যে ৬৮ হাজার ডলার ফেরত এসেছে বলে জানিয়েছেন সচিব। সর্বশেষ অবস্থা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের কাছে একটি রিপোর্টও পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনে র‍্যাব: রিজার্ভ থেকে চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রোববার বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনে গিয়ে বৈঠক করেছে এলিট ফোর্স র‍্যাব। সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শক রাকেশ আস্তানার সঙ্গে বৈঠক করেছেন র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান।

Comments

comments