পুলিশ কেন তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করছে না !

পুলিশ কেন তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করছে না !

অনলাইন খবর ডটকমঃ


 

প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয় অপহরণ চক্রান্তের সঙ্গে সাংবাদিক শফিক রেহমানের সংশ্লিষ্টতার কথা বললেও তার তথ্য প্রমাণ পুলিশ উপস্থাপন করছে না কেন- এমন প্রশ্ন তুলেছেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার।

সোমবার রাতে পূর্বপশ্চিমকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন। ইমরান এইচ সরকার বলেন, ‘পুলিশ বলছে শফিক রেহমানের সংশ্লিষ্টতা আছে ওই ঘটনায় (জয় অপহরণ চক্রান্ত)। আমার কথা হলো তাহলে পুলিশ তথ্য প্রমাণ উপস্থাপণ করছে না কেন? পুলিশ মুখে বললেই তো হলো না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা আসলে ভিন্নমতের মানুষ হওয়ার কারণে হয়েছে বলে আমি মনে করি। তবে যদি শফিকুর রেহমানের কোনো সম্পৃক্ততা থাকে ওই ঘটনায় তাহলে তার সাজা হোক। কিন্তু আগে তো প্রমাণ করতে হবে তিনি দোষী। আমি এই কথাটাই বলতে চেয়েছি আমার স্ট্যাটাসে।’

সজিব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ চক্রান্তের মামলায় শনিবার শফিক রেহমানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সে রাতেই ওই গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানান গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান।

তিনি নিজের ফেইসবুক পেইজে এক পোস্টে লেখেন, ‘৮১ বছর বয়সী প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমানের গ্রেফতার ও রিমান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। শফিক রেহমানের রাজনৈতিক আদর্শের সাথে আমি একমত নই। ভিন্নমতের হলেই তাকে দমন করার যে নোংরা রাজনৈতিক অপকৌশল, এর একটা অবসান চাই।’

এরপর রোববার সজিব ওয়াজেদ জয় তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে ইমরানের এ মন্তব্যের তিব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি মনে করেন, হয়তো বিএনপি ইমরান এইচ সরকারকে পয়সা দিয়েছে। আর সে কারণেই হয়তো তিনি তাদের হয়ে কথা বলছেন। এমনকি তিনি ইমরানকে এ জন্য ক্ষমা চাওয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু ইমরান জয়ের সে প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন এবং ‘তিনি অপরাধ করেননি’ বলে মন্তব্য করেন।

এ নিয়ে গত কয়েকদিনে দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। জয় ও ইমরানের মন্তব্যের পক্ষে-বিপক্ষে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন মহল। সোমবার রাতে এ নিয়ে ইমরান এইচ সরকারের সঙ্গে কথা হয় পূর্বপশ্চিমের।

ইমরান এইচ সরকার বলেন, ‘আমি কোন কোনো অপরাধীর পক্ষে নেইনি। আমি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষ নিয়েছি। এখানে ব্যক্তি শফিক রেহমানের নামটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, তিনি বিরোধী মতের ব্যক্তি কিনা তাও আমার কাছে বিবেচ্য নয়। বিবেচ্য বিষয় হলো একজন নাগরিক তার মত প্রকাশ করতে পারছে কিনা? যেহেতু শফিক রেহমান একজন সাংবাদিক, সেহেতু মতপ্রকাশের বিষয়টি আসছে। বিরোধী মত দমনের যে সংস্কৃতি শুরু হয়েছে আমি তার সমালোচনা করেছি। আমার বক্তব্য পরিস্কার। মার্কিন জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের নথিতে শফিক রেহমানের নাম নেই। তাছাড়া এফবিআই কর্মীকে ঘুষ দিয়ে তথ্য নেয়ার চেষ্টাসহ ষড়যন্ত্রের যে চেষ্টা হয়েছিলো সেটির বিচার কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৫ সালেই হয়ে গেছে।’

‘আমি কোনো অপরাধ করিনি। তাই সরকারের কাছে ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’ গণজাগরণ মঞ্চের এই মুখপাত্র বলেন, ‘আমি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ভিন্নমত প্রকাশের পক্ষে বলতে গিয়ে এখন নিজেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হারাচ্ছি।’ ‘গণজাগরণ মঞ্চ প্রতিষ্ঠার পর থেকে গণ মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করে চলেছে। আজও তা অব্যাহত আছে।এখানে কে সমর্থন দিল আর কে দিল না সেটা মূখ্যবিষয় নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার গণজাগরণ মঞ্চকে কখনোই সমর্থন করেনি। বরং নানাভাবে বাধা দিয়েছে আমাদের কার্যক্রমে। শুধু সরকার নয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও আমাদের বাধা দিয়েছে। সরকারের সঙ্গে আমাদের কোন দ্বন্দ্ব নেই, সখ্যও নেই। আমরা মানুষের ন্যায়সঙ্গত অধিকারের জন্য কাজ করি।’ ‘আর একটি বিষয়, সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে আমার মতবিরোধের সঙ্গে গণজাগরণ মঞ্চের কোনধরনের সম্পৃক্ততা নেই। এটা আমার ব্যক্তিগত ইস্যু।’

ফেসবুক পেইজে দেয়া বক্তব্যের প্রধান দিকটি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমার লেখায় ৩টি বিষয় ছিলো। শফিক রেহমানের গ্রেফতারের নিন্দা জানানোর মাধ্যমে ভিন্নমত প্রকাশের স্বপক্ষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছি। তবে আসল বিষয় হলো সরকার কেনো নিজেদের ওপর আঘাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে? দেশের সবারইতো বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। শুধু সরকার ঘনিষ্ঠ উঁচু তলার জন্য সুবিচার আর বাকী সবাই বিচার বঞ্চিত হবে এটা মানা যায় না। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি, তনু হত্যার মতো জনসাধারণের ইস্যুগুলোর বেলায় কিন্তু জড়িতরা সবাই ধরা ছোঁয়ার বাইরেই থেকে গেলো। আর প্রতিপক্ষ দমনের যে সংস্কৃতি চালু হয়েছে তারও অবসান চেয়ে লিখেছিলাম লেখাটা।

কি লিখেছিলেন জয় ইমরানের সমালোচনায় সরব জয় ফেসবুকে লেখেন, ‘আমি আশাই করেছিলাম বিএনপি এটা নিয়ে মিথ্যা বলার চেষ্টা করবে। যদিও, আমি আশ্চর্য হয়েছি ইমরান সরকারের বিষয়ে। সম্ভবত শেষ পর্যন্ত তার আসল চেহারাটা উন্মোচিত হলো। এটা দেখে মনে হচ্ছে সে আমাদের বেশিরভাগ সুশীলের মতই, আরেকটা সুবিধাবাদী এবং মিথ্যাবাদী। হয়তো বিএনপি তাকে পয়সা দিয়েছে। কে জানে। যেভাবেই হোক, আমি তার প্রতি সব শ্রদ্ধা হারিয়েছি।’

‘তাকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে আমাদের সরকারের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।আমি আমার সকল বন্ধু এবং ভক্তদের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, যারা তাকে অনুসরণ করেন তারা তাকে ফেসবুক থেকে আনফলো/আনফ্রেন্ড করুন। সে একজন অপরাধীর হয়ে কথা বলছে যে আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছিলো।’ আর কি ছিল ইমরানের স্ট্যাটাসে ইমরান এইচ সরকার তার ফেইসবুক পোস্টে অশীতিপর এই সাংবাদিককে ‘অপহরণের বায়বীয় অভিযোগে’ গ্রেফতার করা হয়েছে উল্লেখ করে হতাশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘দেশে যখন একের পর এক মানুষ খুন হচ্ছে, লেখক-প্রকাশক-বিদেশি থেকে শুরু করে মসজিদ-মন্দিরে ঢুকে মুয়াজ্জিন-পুরোহিতকে হত্যা করা হচ্ছে তখন খুনীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে অপহরণের বায়বীয় অভিযোগে এমন একজন প্রবীণ সাংবাদিককে গ্রেপ্তার সত্যিই হতাশাজনক।’

তিনি বলেন, ‘আমি প্রত্যাশা করি, সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং প্রতিপক্ষকে দমনের চেয়ে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের দিকে মনোযোগী হবে।’

 

Comments

comments